ঘরবন্দী জীবন কাটাতে গিয়ে আমরা অনেকেই হাঁপিয়ে উঠেছি। কিন্তু এছাড়া যে আর উপায় নেই । তবে একদিন হয়ত সব ঠিক হবে আর তখন আবার জীবনে নেমে আসবে ব্যস্ততা। তবে এই বন্দী জীবন শেষ হলে মন যদি চাই একটু ঘুরতে যেতে? একটু দু চোখ ভরে আবার প্রকৃতিকে দেখতে? অনেকেই হয়ত ভেবে নিয়েছেন সে ব্যাপারে। জায়গাও ঠিক করে নিইয়েছেন। তবে পুরোপুরি পর্যটন ব্যাবস্থা কবে স্বাভাবিক হবে কেও জানে না। আবার টাকার সমস্যা তো আছেই। তবে আপনি কি জানেন, আমাদের এই রাজ্যেই দিঘা, দার্জিলিং, শান্তিনিকেতন ছাড়াও আরও অনেক ঘোরার জায়গা আছে। যেখানে দু দিনের ছুটিতে, কম পয়সায় টুক করে ঘুরে আসতে পারেন। এরকমই পাঁচটা জায়গার খোঁজ আজ দেব আপনাদের।
১. গড় পঞ্চকোট

পুরুলিয়া জেলায়, পাঞ্চেত পাহাড়ে ছোট্ট একটি বেড়ানোর জায়গা। এক কালে এখানে একটি দুর্গ ছিল, যা বর্গিরা নষ্ট করে দিয়ে যায়। চারিদিকে সবুজে ঘেরা ছোট পাহাড়ের গায়ে ভাঙ্গা মন্দির ও কেল্লার অংশ নিয়ে গড়া সুন্দর এক জায়গা। কলকাতা থেকে জায়গাটির দূরত্ব ২৫৬ কিমি। সোজা গাড়িতে যেতে পারেন। ট্রেনে আসানসোল পৌঁছে, সেখান থেকে যেতে পারেন। পুরুলিয়া শহর থেকে গড় পঞ্চকোটের দূরত্ব ৬০ কি মি এর মত।
২. পাউসি বা মনচেষ্টা

পূর্ব মেদনিপুরের এক ছোট্ট গ্রাম পাউসিতে মনচেষ্টা ইকো ভিলেজ অবস্থিত। দুদিনের ছুটিতে এই ইকো ভিলেজ ঘুরে আসতে পারেন। নদীর তিরে, সবুজের মাঝে এক অন্যরকম অনুভূতির সাক্ষ্যি থাকবে এই জায়গা।
৩. গনগনি – দ্যা গ্রেট ক্যানিয়ন অফ বেঙ্গল

পশ্চিম মেদনিপুরের গড়াবেতা শহরের বাইরে এই জায়গাটি অবস্থিত। এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এতই সুন্দর যে একে গ্রেট ক্যানিয়নের সাথে তুলনা করা হয়। স্থানীও লোকেদের মতে মহাভারতের ভীম, এখানেই বাকাসুরকে বোধ করেন। কলকাতা থেকে বাই রোড বা ট্রেনে করে সহজেই আসা যায় গড়াবেতা।
৪. বেল পাহাড়ি

ঝাড়গ্রামের কাছে এটি একটি ছোট্ট আদিবাসী গ্রাম। এক সময় এই জায়গাতে মায়াবাদীদের প্রকোপ ভালো রকম ছিল। যদিও এখন জায়গাটি একটি ট্যুরিস্ট আকর্ষণ। ছোট ঝর্না, পাহাড়ি নদীর এই জায়গাতে বেড়াতে যাওয়ার সঠিক সময় হল বর্ষাকাল। ঝাড়গ্রাম শহর থেকে বেলপাহাড়ির দূরত্ব ৫৬ কিমি। ঝাড়গ্রাম থেকে বাস বা জিপ পাওয়া যায়, বেল পাহাড়ি যাওয়ার জন্য।
৫. ধত্রে

সাধারণত বাঙালি পাহাড় বলতে দার্জিলিং, কালিম্পং বা মিড়িক কেই চেনে । কিন্তু ঘুম থেকে আর একটি রাস্তা লেপচাজগৎ হয়ে সোজা চলে যায় ধত্রে। পাহাড়ের গায়ে ছোট্ট একটি গ্রাম। দার্জিলিঙের থেকেও উঁচুতে অবস্থিত হওয়াতে, ধত্রেতে ঠাণ্ডা বেশ ভালো রকম থাকে। এছারাও সান্দাকফু, টংলু যাওয়ার একমাত্র রাস্তা শুরু হয় ধত্রে থেকেই। এখানে বেশ কিছু হোমস্টে আছে থাকার জন্য। শিলিগুড়ি থেকে সোজা গাড়ি পাবেন। আবার দার্জিলিং বা মিড়িক থেকে আসা যাওয়ারও ব্যাবস্থা আছে। গ্রামটি সিঙ্গলিলা জাতীয় উদ্যানের মধ্যে অবস্থিত হওয়াতে, গ্রামে ঢোকা বা বেরনোর মুখে চিতা ও অন্য জংলি পশুর সাথে দেখাও হয়ে যেতে পার
ঋণস্বীকার– ঈশানী দাস














মন্তব্য করুন
মন্তব্য দেখুন