২০২০ সালের জার্মান বুক ট্রেডের ‘শান্তি পুরষ্কার’ পেলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও অধ্যাপক অমর্ত্য সেন

Image source: Internet

বিগত কয়েক দশকব্যাপী কাজের স্বীকৃতি পেলেন অধ্যাপক অমর্ত্য সেন। গতকাল বরসেনভেরেইন, যা কি না জার্মান বই ও প্রকাশনা সংস্থার পোষাকি নাম, তার প্রধান কারিন স্মিট-ফ্রিড্রিক্স এই ঘোষণাটি করেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, উক্ত সংস্থা এই পুরষ্কারটি দিয়ে আসছে ১৯৫০ থেকে যার বর্তমান পুরষ্কার মূল্য ২৫,০০০ পাউন্ড।

আগামি ১৮ই অক্টোবর, ২০২০ তে ফ্র‍্যাঙ্কফুর্টের সেন্ট পল চার্চে অধ্যাপক অমর্ত্য সেনের হাতে এই পুরষ্কারটি আনুষ্ঠানিক ভাবে তুলে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

অতীতে তাঁর গবেষণাকে পাথেয় করেই বিশ্বের তথাকথিত উন্নয়নশীল ও পিছিয়ে পড়া বহু দেশে সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ ও সম্পদের বণ্টনের ক্ষেত্রে কিছু আশাব্যঞ্জক পরিবর্তন এসেছে। ৮৬ বছর বয়সেও অধ্যাপনার পাশাপাশি অর্থনীতির একনিষ্ঠ ছাত্র হিসেবে নিবিষ্ট চিত্তে কাজ করে চলেছে। সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণের ক্ষেত্রে তাঁর গবেষণালদ্ধ ফল যে আজও কতটা অপরিহার্য ও প্রণিধানযোগ্য তা এই স্বীকৃতি আবার প্রমাণ করে।

সংস্থার প্রধানের কথায়, বিশ্বের মানবকল্যাণ সূচক (Human Development Index), সক্ষমতা পরিবর্ধন উদ্যোগ (Capability Approach) এবং নিখোঁজ নারীদের সম্পর্কে ধারণা (Notion of ‘Missing Women’) এই তিনটি ক্ষেত্র তাঁর আরও অসংখ্য ছকভাঙা গবেষণার ক্ষেত্রসমূহের মধ্যে অন্যতম, যা কি না বিশ্বব্যাপী সম্পদের সমবণ্টন, সামাজিক ন্যায়প্রতিষ্ঠা এবং জীবন ধারণের অনুকূল পরিস্থিতি ও পরিবেশ নির্মাণের জন্য অত্যন্ত সহায়ক দলিল। তাঁর নিবিড় গবেষণালদ্ধ ফল বিশ্লেষণ ও তার সম্যক প্রয়োগের ফল বহু দেশে প্রতিফলিত হয়েছে যা বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক আঙিনায় ও বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধানের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে অবশ্যম্ভাবী প্রভাব বিস্তার করেছে ও করবে।

আমরা এই ক্ষণজন্মা বঙ্গসন্তানের দীর্ঘতর কর্মব্যস্ত জীবিন কামনা করি এবং আশা করি তাঁর সাফল্যের মুকুটে আরও নতুন পালক যুক্ত হতেই থাকবে।