পশ্চিমে ভূমধ্যসাগর ও দক্ষিণে মিশর, বাকিটা ঘিরে আছে ইজরায়েল। মধ্যপ্রাচ্যের একফালি ভূখণ্ড, ক্ষেত্রফলে আমাদের কোলকাতার ঠিক দ্বিগুণ কিন্তু এটাই প্রায় দুই কোটি প্যালেস্টিনির ঘর। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারে পৃথিবীতে ১৩তম। কাতারে কাতারে মানুষ প্যালেস্টাইনের মূল ভূখণ্ড থেকে মাথা গোঁজার আশায়, জীবিকার আশায় ভিড় জমান। জন্ম থেকে আমৃত্যু উদ্বাস্তু।
আমাদের দেশ আজও বিভাজনের দগদগে ঘা বয়ে নিয়ে চলেছে। পাঞ্জাব, বাংলায় কোটি কোটি মানুষ আজও তাদের হারানো ভিটে মাটির স্মৃতি আঁকড়ে রয়েছেন, অনেকে হারিয়েছেন তাঁদের নিজের মানুষকে, ৪০ এর দশক, তারপরে ৭২ সালে দলে দলে মানুষ কাঁটাতার পেরিয়ে এদেশে এসেছেন, পথে অনাহারে দিন কেটেছে, মেয়েদের উপরে বর্বর অত্যাচার, কখনও রাষ্ট্র অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণের নামে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে, কিন্তু সময়ের সাথে আমাদের দেশের মহান সভ্যতার বহমানতায় মিশে গিয়েছেন, দেশ তাদের আশ্রয় দিয়েছে, অধিকার দিয়েছে, দেশ-ধর্মের সীমা উত্তীর্ণ হয়ে তাঁরাও হয়ে উঠেছেন ভারতীয়।
কিন্তু গাজার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ভিন্ন, ১৫ই নভেম্বর, স্বাধীন প্যালেস্টাইন জন্ম নিল, ২০১২ তে রাষ্ট্রসংঘ গাজাকে প্যালেস্টাইনের অংশ হিসেবে ঘোষণা করল। কিন্তু ইজরায়েল সামরিক বাহিনীর আগ্রাসন বন্ধ হল না। শুরু হয়েছিল ১৯১৮ নাগাদ, ব্রিটেন আর তুর্কির যুগলবন্দীতে লাগাতার আক্রমণ, তখন গাজায় অটোমান এম্পায়ার, তারপর একে একে কখনও মিশর কখনও ইজরায়েল। ২০০৭ থেকে De-Facto সরকার হিসেবে ক্ষমতায় আসীন ‘হামাস'(প্যালেস্টিনিদের সমর্থনে এক জেহাদি সংগঠন, HAMAS, Ḥarakat al-Muqāwamah al-ʾIslāmiyyah, অর্থ ‘ইসলামীয় প্রতিরোধ আন্দোলন’) সরকার। তবে বন্ধ হয়নি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, ইজরায়েলী হানা, সাম্রাজ্যবাদের ক্ষুধা আজও নিবৃত হয়নি, হওয়ারও নয়। রাষ্ট্রসংঘ চুপ, আমেরিকার প্রচ্ছন্ন সমর্থন ইজরায়েলকে। চীন, কিউবা, ভিয়েতনামের মত সমাজতান্ত্রিক দেশ গুলিও চুপ। শুধু মৃতদেহ, নিহত মানুষ-শিশুর মুখ, গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া বাড়ির দেওয়াল গুলির নির্বাক ‘গ্রাফিত্তি’ গুলিই বাঙময় হয়ে রয়েছে।
রমজান মাসের শেষে আর কিছুক্ষণের মধ্যেই খুশির ঈদ। তবে সেই পবিত্র মুহূর্তের চন্দ্রিমা এই ৩৬৫ বর্গ কিলোমিটারের ছোট্ট এক টুকরো জমিতে কোন স্বপ্নালু স্নিগ্ধতা আনবে না তা বলাই বাহুল্য। মানুষ সত্যই শ্রেষ্ঠ জীব, ঈশ্বর ও অস্ত্র দুই’ই তারই সৃষ্টি, তবে সে সচেতন ভাবে তার অস্ত্রগুলিকে ক্রমশ সর্বশক্তিমান করে তুলছে, তাকে অতিক্রম করবার মত অত শক্তি ঈশ্বরের নেই। জয় সভ্যতা! জয় মানবতা!














মন্তব্য করুন
মন্তব্য দেখুন