‘লকডাউনে বসে গল্প ভেবেছিলাম, সুযোগ আসতেই শুট করে ফেলেছি, পরিস্থিতি খারাপ বলে তো আর জীবন থেমে থাকে না’, বিমুখ পরিস্থিতেও ইতিবাচক পরিচালক।
মুক্তি পেলো রজত সাহা পরিচালিত, ওয়ান লাভ মিডিয়ার নতুন শর্ট ফিল্ম “শেষ বেলায়”। পরিচালকের সাথে আলাপচারিতায় উঠে এলো শুটিং পর্বের নানান খুঁটিনাটি গল্প৷ সেই সব গল্পের ঝুলির খানিকটা অংশ রইল আপনাদের জন্য।
“পাতা ঝরার দিনে” এর পর এবার “শেষ বলায়”। পুরোদস্তুর রোম্যান্টিক সিনেমার থেকে হঠাৎ কমেডির দিকে ঝোঁকের কারণ?
রজত –
“শেষ বেলায়” পুরোপুরি কমেডি না। এতেও প্রেম আছে, আবেগ আছে, কষ্ট আছে। কিন্তু সত্যিকারের জীবনে আমরা সবকিছুর সাথে মানিয়ে নিয়েই হাসি। আর এখানে সেটুকুই হাসি, সেটুকুই কমেডি।
“টেক কেয়ার” এর পর এতদিন বাদে লহরী চক্রবর্তীর সাথে কাজ করে কেমন লাগলো?
রজত –
লহরী ভালো বন্ধু আমার, কাজের বাইরেও ওকে আমি আজ প্রায় আট বছর ধরে চিনি। তাই ওকে যখন পরিচালনা করি তখন বেশি কিছু বলতে হয়ে না। একটু বললেই আমি কি চাইছি সেটা ও ধরে ফেলে। এছাড়া ওর আর একটা বিশেষ গুণ হলো ও কিছুতেই স্ক্রিপ্টের বাইরে যায় না। তাই অন শট চাপ কম হয়ে। এরকম একজন অভিনেত্রীর সাথে কাজ করতে ভালো তো লাগবেই।
চন্দ্রা ও অর্পিত চরিত্র দুটির সম্পর্কে কিছু বলুন
রজত –
অর্পিত সহজেই মানতে পারে আর মানিয়ে নিতেও পারে। জটিলতা রাখেনা একটুও মনের মধ্যে। চন্দ্রা সেখানে একটু ডমিনেটিং, একটু নার্ভাস প্রকৃতির।কিন্তু ছেড়ে দেওয়ার ক্ষমতা তারও আছে।
লকডাউনের পরও আপনি দু দুটো শর্ট ফিল্ম রিলিজ করেছেন। এই খারাপ পরিস্থিতির মধ্যেও এতো পজিটিভ কি করে?
রজত –
লকডাউনে বসে বসে গল্প ভেবেছিলাম। সুযোগ আসতেই শুট করে ফেলেছি। খারাপ পরিস্থিতি তো বটেই। কিন্তু তাই বলে তো জীবন থেমে থাকবে না, তাই খারাপকে সাথে নিয়েই এগোতে হবে।
অরুণাভ দে এর সাথে প্রথমবার কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
রজত –
অরুণাভ খুব ভালো অভিনেতা। ওর মধ্যে একটা ব্যাপার আছে যে ও নতুন কিছু করে। কাল ও যে কাজ করেছে, আজ অন্য কাজ করলে আলাদা হবে। আর ওর এই নতুন কিছু দেওয়ার চেষ্টা আছে বলেই ও এখনই এতটা পপুলার স্বাধীন প্রডাকশন হাউস গুলো তে। আর ও কাজের পরও ইনভলব থাকে অনেকটা।
ওয়ান লাভ মিডিয়া রোম্যান্টিক সিনেমার জন্য বিখ্যাত। এর আগেও অনেক সুন্দর সুন্দর রোম্যান্টিক শর্ট ফিল্ম আপনারা বানিয়েছেন। পরবর্তীকালেও কি রোম্যান্টিক সিনেমাই বানাবেন, নাকি ঘরানা বদলানোর ইচ্ছে আছে?
রজত –
আমাদের থ্রিলার সিনেমাও আছে। অভিজ্ঞান পরিচালিত “ডিয়ার রিয়া” ওয়ান লাভ মিডিয়ার একটা থ্রিলার। সামনে আমাদের একটা সামাজিক ড্রামা ও সায়নের পরিচালনায় আর একটি থ্রিলার আসছে।
নিউ নরম্যালের সাথে তাল মিলিয়ে শুটিং করার অভিজ্ঞতা কেমন?
রজত –
বিশেষ কিছুই না, একটু সাবধানে থাকতে হয়ে আরকি। মাস্ক পরা, হাত ধোয়া, জিনিসপত্র স্যানিটাইজ করা এগুলো ডেলি রুটিনে নতুন যুক্ত হয়েছে।
একের পর এক মিষ্টি মধুর রোম্যান্টিক কন্টেন্ট বানিয়ে চলা পরিচালকের নিজের লাভ লাইফ স্টেটাস কি?
রজত –
পুরোপুরি সিঙ্গেল।
কেমন কাটলো এবছরের অন্যরকম পূজো এবং দিওয়ালি?
রজত –
পূজো স্কুলের বন্ধুদের সাথে আর দিওয়ালিও তাই। পূজোয় হয়ে আমি ঘুরতে যাই, না হলে স্কুলের বন্ধুদের সাথে সময় কাটাই। কলকাতায় আমি থাকি না।
নতুন যারা ইউটিউবে শর্ট ফিল্মের বানাচ্ছে বা ইউটিউবে শর্ট ফিল্ম রিলিজ করার কথা ভাবছে তাদেরকে আপনি কি পরামর্শ দিতে চান?
রজত –
ইউটিউব বিজনেস কিন্তু আলাদা বলের খেলা। তাই এখানে ব্যাবসা করতে এলে সেটা বুঝে নামতে হবে। আর টিম এমন সিলেক্ট করতে হবে যারা প্রমোশনে সাথে থাকবে। একবার না, বার বার অনর্গল প্রমোশন করতে হবে। এমন টিম বানালাম যাতে পরিচালক শুধু একা প্রমোশন করছে, আর বাকিরা শুধু একবার শেয়ার করেই খালাস তাহলেই মুশকিল। এমনকি অভিনেতাদেরও সেইভাবেই বাছতে হবে যারা প্রমোশনে সাহায্য করবে। ইউটিউবের ক্ষেত্রে প্রমোশন না হলে সব শেষ। তাই সব দিক বিচার করে টিম রেডি করার পরামর্শ দেব সবাইকে।
গত ১৮ই নভেম্বর মুক্তি পেয়েছে রজত সাহা পরিচালিত ওয়ান লাভ মিডিয়ার নতুন শর্ট ফিল্ম “শেষ বলায়”। কেমন হলো চন্দ্রার বিয়েতে অর্পিতের ফটোগ্রাফীর অভিজ্ঞতা? জানতে হলে সিনেমাটি দেখতে ভুলবেন না।















মন্তব্য করুন
মন্তব্য দেখুন