রবিবারের অলস দুপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার মতো একটি খবর। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন সুশান্ত সিং রাজপুত। মুম্বাইয়ে নিজের ফ্ল্যাটেই আত্মঘাতী হন তিনি।
যে বয়সে অনেক শিল্পীর কেরিয়ার শুরু হয় সেই বয়সেই খ্যাতির মধ্যগগনে থাকাকালীনই চলে গেলেন সুশান্ত। বিজ্ঞানের মেধাবী ছাত্র ফিজিক্সে জাতীয় অলিম্পিয়াড বিজয়ী হন। ইঞ্জিনিয়ারিং-য়ে ভর্তি হয়েও অভিনয়ের প্রতি অদম্য ভালোবাসার টানে সুশান্ত ভর্তি হন থিয়েটার স্কুলে। অভিনয়ের প্রথাগত প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হয়ে সেখান থেকে ২০০৯-এ ছোটপর্দায় কেরিয়ার শুরু করেন এবং অচিরেই পাশের বাড়ির ছেলে সুলভ সারল্য মাখা মিষ্টি মুখের এই অভিনেতা দেশের প্রতি ঘরের ‘ঘরের ছেলে’ হয়ে ওঠেন।
ছোটপর্দায় আত্মপ্রকাশের বছর চারেকের মধ্যেই বড়পর্দায় কাই পো চে তে ঈশানের রোল। তারপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি।
আজ তাঁর অকালসমাপ্ত অথচ উজ্জ্বল ফিল্ম কেরিয়ারের মনে রাখার মতো ৫ টি উল্লেখযোগ্য পারফরমেন্স ফিরে দেখবো আমরা।
১. কাই পো চে (২০১৩)
সুশান্তের সেলুলয়েড আত্মপ্রকাশ এবং আবির্ভাবেই প্রত্যাশাকে ছাপিয়ে যান। ছোটপর্দার লাজুক, মিতভাষী চরিত্র থেকে বড়পর্দার রগচটা, ক্রিকেট পাগল ছেলে ঈশানের চরিত্রে অনায়াস ট্রান্সফরমেশন সুশান্তের মেথড অ্যাক্টিংয়ের সুনিপুণ প্রয়োগের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। একজন প্রশিক্ষিত অভিনেতার ট্রেডমার্ক।

২. শুধ দেশী রোমান্স (২০১৩)
একই বছরে দ্বিতীয় ছবি। হৃদয়ের খামখেয়ালি পনায় বিভ্রান্ত রঘুর চরিত্রে সাবলীল সুশান্তকে ভালোলাগে। যদিও ছবিটি বক্স অফিসে বা সমালোচকদের মনে কোথাও তেমন রেখাপাত করেনি।

৩. ডিটেকটিভ ব্যোমকেশ বক্সি (২০১৫)
অদ্যাবধি ব্যোমকেশ চরিত্রের যে কয়টি চরিত্রায়ন বা চিত্রায়ন আমরা দেখেছি, এটি নিঃসন্দেহে সবচেয়ে স্বতন্ত্র। সত্যজিৎ রায়ের চিড়িয়াখানার পর থেকে মোটা কালো ফ্রেমের চশমা আঁটা টেম্পলেটের ব্যোমকেশ দেখতেই অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া সিনেফিলরা একটা নতুনত্বের স্বাদ পেয়েছিলেন। ছবির নির্মাণ বা চরিত্রটি কতটা ব্যোমকেশোচিত হয়ে উঠেছিল সে বিতর্ক নিষ্প্রয়োজন। কিন্তু সুশান্তের অভিনিত ব্যোমকেশ অভিনয় ও নির্মাণের সুবাদে বাঙালির মনে তার স্বতন্ত্র জায়গা করতে সমর্থ হয়েছে।
৪. সোনচিড়িয়া (২০১৯)
সম্ভবত সুশান্তের সেরা পারফর্মেন্স। বক্স অফিসে দাগ না কাটলেও সমালোচকদের ভূয়সী প্রশংসা পায় ছবি তথা সুশান্ত অভিনীত লাখনা চরিত্রটি। অত্যন্ত সুলিখিত চরিত্র ও চিত্রনাট্য।
৫. ছিছোড়ে (২০১৯)
এই আর্টিকল লেখকের আয়রনির লাগসই বাংলা জানা নেই। জানলে পাঠকেরা সাহায্য করবেন। এই ছবির মূল বার্তাই ছিলো জীবনে হার না মানা, লড়াইতে টিঁকে থাকা।















মন্তব্য করুন
মন্তব্য দেখুন