আ কুইন্টেশেনশিয়াল স্পোর্টসম্যান

মাত্র মাসখানেকের ব্যবধান, ভারতীয় ফুটবলের স্বর্ণযুগের হোলি ট্রিনিটির অন্যতম পি.কে ব্যানার্জির জীবনাবসান হয়েছিলো। করোনা সংক্রমণের জেরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রিয় বন্ধুর শেষ বিদায় যাত্রায় থাকতে পারেননি। আজ বিকেলে চুনীও চলে গেলেন।


ভারতীয় ফুটবলের ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের ফর্দ করতে বসা নিতান্তই বাতুলতা। ৯ বার কলকাতা লীগ, ৫ বার আইএফএ শীল্ড, ৪ টি ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন এবং এসবই ১৪ বছরের পেশাদার ক্লাব ফুটবল কেরিয়ারে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ১৯৫৬ অলিম্পিকে হিদেকুটি, পুসকাসের হাঙ্গেরির সাথে তুল্যমূল্য লড়াইতে হেরে চতুর্থ হওয়া ভারতীর দলের সদস্য, ১৯৬২ এশিয়াডে সোনা জয়ী ভারতীয় দলের অধিনায়ক এসব তাঁর উজ্জ্বল কেরিয়ারের হাইলাইটস।

কিন্তু যুগপৎ ফুটবলার ও  ক্রিকেটার হিসেবে যে স্বাক্ষর তিনি রেখেছেন তা আমাদের দেশের নিরিখে নজিরবিহীন।

দ্য হোলি ট্রিনিটিঃ চুনি, পিকে, বলরাম।

তিনিই দেশের একমাত্র ক্রীড়াবিদ যিনি অধিনায়ক হিসেবে দেশের সর্ব্বোচ্চ আন্তরাজ্য ফুটবল প্রতিযোগিতা সন্তোষ ট্রফি জেতেন, এবং দেশের আন্তরাজ্য প্রিমিয়াম ক্রিকেট প্রতিযোগিতা রঞ্জি ট্রফির ফাইনাল খেলেন, ১৯৬৯ এবং ১৯৭২ (‘৭২ এ বাংলা দলের অধিনায়ক)। অথচ তাঁর ‘ক্রিকেটার’ হওয়ার নেপথ্যে যে গল্প আছে তাতে এ কথা বলাই যায় যে তিনি ক্রিকেট খেলা শুরুই করেছিলেন নিছক খেলাচ্ছলে। সেই কাহিনী বর্ণনা করেছেন নিজের লেখা বই ‘খেলতে খেলতে’ তে। বইয়ে সুললিত গদ্য, লেখার বাঁধুনি তাঁর সাহিত্যিক সত্তার স্বাক্ষর রাখে।

এছাড়াও তাঁর বর্ণময় ক্রীড়াজীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো টটেনহ্যাম হটস্পার দলে ডাক পাওয়া, কিন্তু সেইটিও এই পোড়া দেশের অসংখ্য না হওয়া রূপকথার মতো একটি হয়ে রয়ে যায়, তাঁর আর খেলতে যাওয়া হয়নি। এছাড়াও প্রবাদপ্রতিম ক্রিকেটার স্যার গ্যারি সোবার্সের বইতেও তাঁর নামের উল্লেখ পাওয়া যায়।

বহুমুখী প্রতিভার এই মানুষটির সম্পর্কে যেটুকু আমরা জানি তা হয়তো হিমশৈলের চূড়ামাত্র, প্রতিভার পরিপূর্ণ বিকাশ হলে তিনি কোথায় পৌঁছতেন তা রহস্যই রয়ে যাবে।

বিদায় সুবিমল চুনী গোস্বামী, আ কুইন্টেশেনশিয়াল স্পোর্টসম্যান।